মঙ্গলবার, ১৮-ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:২২ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাত
দীর্ঘ এক বছরেও তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হয়নি 

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাত

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘টিকা উৎপাদন প্রযুক্তি আধুনিকায়ন ও গবেষণাগার সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে রীতিমতো পুকুর চুরি হয়েছে। সিলিং ফিলিং মেশিনসহ ৩৮ কোটি টাকার এই যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ ও বিল পরিশোধে ব্যাপক দুর্নীতি-জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে। যে মেশিনগুলো ক্রয়ের জন্য ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সর্বসাকুল্যে তার বাজারমূল্য ১৩ কোটি টাকার বেশি নয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ২৫ কোটি টাকাই আত্মসাত হয়েছে। 
এমনকি যন্ত্রপাতি সরবরাহ না নিয়েই স্টক দেখিয়ে ঠিকাদারকে কোটি কোটি টাকার অগ্রিম বিল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হাত ধরে এসব জালিয়াতি হয়েছে। মহাদুর্নীতি-জালিয়াতির এই ঘটনা ফাঁস হবার পর তা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত রিপোর্ট এ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এরমধ্যে এক বছর পার হয়ে গেছে। উল্টো দুর্নীতির ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে খোদ তদন্ত কমিটিই। কারণ, কমিটির প্রধান নিজেই পরোক্ষভাবে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে এই ক্রয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এদিকে বর্তমান প্রািীসম্পদ সচিব মো. রইছ উল আলম ম-লও পরবর্তীতে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। মূলত সচিবের ইশারায়ই দুর্নীতির তদন্তটি দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ‘টিকা উৎপাদন প্রযুক্তি আধুনিকায়ন ও গবেষণাগার সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য সিলিং-ফিলিং মেশিনসহ কয়েক ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিভিন্ন লটে তার কার্যাদেশ হয়। একটি লটে দরপত্র আহ্বানের প্রেক্ষিতে ইনভেন্ট টেকনোলজি, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস ও লিংকার্স এন্টারপ্রাইজসহ মোট ৩ টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এরমধ্যে ইনভেন্ট টেকনোলজি ও বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস একই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান। জনৈক আব্দুল আওয়াল এই প্রতিষ্ঠান দু’টির মালিক। অন্য প্রতিষ্ঠান লিংকার্স এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল জব্বার।
দরপত্রে অংশ নেয়া ৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইনভেন্ট টেকনোলোজি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দর দেয়  ২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস ১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা ও একই যন্ত্রপাতি ক্রয়ে লিংকার্স এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে সর্বনিম্ন দর দেয়া হয় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার ৪৩৭ টাকা। কিন্তু কারসাজি করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে ক্রয়াদেশ না দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কাজ দেয়া হয়। অথচ দরপত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া ৩ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সায়েন্স হাউসসহ ২ প্রতিষ্ঠানেরই মালিক আব্দুল আওয়াল।  
সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি), যিনি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিরও সভাপতি ডা. রাশিদুল আলম এবং দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আব্দুল আওয়াল পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি করে, লিংকার্স এন্টারপ্রাইজের দরপত্র থেকে কাগজপত্র গায়েব করে প্রতিষ্ঠানটিকে নন-রেসপনসিভ দেখায়। আওয়ালের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতেই এই কারসাজি করা হয়েছে। এমনকি কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার কার্যাদেশ দিলেও অস্বাভাবিক বেশি দরে নিম্নমানের এবং পুরনো প্রোডাক্ট আমদানির পথ সহজ করতে কোনো ধরনের প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন বা পিএসআই এর বাধ্যবাধকতা পর্যন্ত রাখা হয়নি।
সূত্র জানায়, দুর্নীতি জালিয়াতির মাধ্যমে তেলেসমাতি করে বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কার্যাদেশ দিয়ে যন্ত্রপাতি কেনাকাটার নামে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছে। এই লট ছাড়াও অন্যান্য লট মিলিয়ে মোট ৩৮ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে প্রায় একই সময়ে। প্রত্যেকটি লটেই এভাবে জাল-জালিয়াতি ও কারসাজির আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থের হলিলুট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ৩৮ কোটি টাকায় যেসব যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে সেগুলোর সর্বোচ্চ বাজার মূল্য ১৩ কোটি টাকার বেশি নয়। বাকি ২৫ কোটি টাকাই আত্মসাত করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। 
জানা গেছে, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস যেসব যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে তার বেশিরভাগই অত্যন্ত নিম্নমানের। দরপত্র অনুযায়ী যেসব দেশের যন্ত্রপাতি বা মেশিনারিজ সরবরাহের কথা তা করা হয়নি। সরবরাহ করা অধিকাংশ যন্ত্রপাতিই তাইওয়ান, চীন ও ভারতে তৈরি করা। কিন্তু নিম্নমানের এসব যন্ত্রপাতিতে ইউএসএ, জার্মান ও ইতালির মতো দেশের স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। সূত্র জানায়, যন্ত্রপাতি আমদানির মূল এয়ার ওয়েজ বিল, বিএল, বিল অব এন্ট্রি, প্রি-সিপমেন্ট ডকুমেন্ট যাচাই করলেই এসব জালিয়াতির প্রমাণ আরো সুস্পষ্ট হবে।  
যন্ত্রপাতি সরবরাহের আগেই বিলের টাকা ঠিকাদারের পকেটে
ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার এই যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়ম, জালিয়াতি এতোটাই লাগামহীন যে- নজিরবিহীনভাবে যন্ত্রপাতি সরবরাহের আগেই বিলের টাকা ঠিকাদারের পকেটে চলে গেছে। অধিদপ্তরের জালিয়াত সিন্ডিকেট যন্ত্রপাতি না নিয়েই স্টক সার্টিফিকেট দেখিয়ে ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল পরিশোধ করেছে। জানা যায়, ৩৮ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে অথচ এসব যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মালামাল সরবরাহ করেছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। অথচ মালামাল সরবরাহের অন্তত ৩ মাস আগেই ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে এর বিল শোধ করে দেয়া হয়েছে। 
নষ্টই থাকে বেশিরভাগ মেশিন
ভ্যাকসিন প্রোডাকশন প্রকল্পের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমদানি করা বেশিরভাগ মেশিনারিজই অত্যন্ত নিম্নমানের। বছরের অধিকাংশ সময়েই এসব যন্ত্রপাতি একেবারে অকেজো থাকে। যা সারতে সারা বছরই লাখ লাখ টাকা সরকারকে গচ্চা দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, নতুন ক্রয় করা এসব মেশিন সচল রাখতে ভারত, চীন, তাইওয়ান থেকে ইঞ্জিনিয়ার আনা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এসব মেশিনের কোনো কোনোটি চালু হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে। তাও বিদেশ থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে চালু করতে হয়েছে। 
জানা গেছে, আমদানি করা এসব যন্ত্রপাতির একটি অংশ প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অধীন প্রতিষ্ঠান- কুমিল্লাস্থ ভ্যাকসিন প্রোডাকশন ল্যাবরেটরিতে সরবরাহ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের পিএসও ইনচার্জ ডা. আতাউর রহমানের সঙ্গে শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ল্যাবরেটরিতে তার পদায়ন হয়েছে ২০১৭ সালের শেষের দিকে। তিনি এই পদে আসার পরই কয়েকটি মেশিন সরবরাহ পেয়েছেন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, মেশিন ক্রয়ের বিল আগের বছর পরিশোধ করা হলেও মেশিনগুলো পাওয়া গেছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। 
লিংকার্স এন্টারপ্রাইজের মালিককে চুপসে যেতে বলেছিলেন পিডি
বাংলাদেশ সায়েন্স হাউসকে কাজ পাইয়ে দিতে কারসাজি করে লিংকার্স এন্টারপ্রাইজের দরপত্র বাতিল করার পর এ বিষয়ে পিডি ডা. রাশিদুল আলমের কাছে লিখিতভাবে জানতে চান লিংকার্সের মালিক আব্দুল জব্বার। অস্বাভাবিক দামে সায়েন্স হাউসের সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি যে নিম্নমানের ওই চিঠিতে তাও পিডিকে জানানো হয়। কিন্তু পিডি ঠিকাদার আব্দুল জব্বারকে এ বিষয়ে কোনো জবাব তো দেনইনি উল্টো তাকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে বরং চুপসে যেতে বলেন।  
তদন্ত কমিটিই ধামা দিতে চায় দুর্নীতি 
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘টিকা উৎপাদন প্রযুক্তি আধুনিকায়ন ও গবেষণাগার সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে নজিরবীহিন এই পুকুর চুরির  ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়ে  ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেন লিংকার্স এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল জব্বার। ওই চিঠিতে ৩৮ কোটি টাকার নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনাকাটা ও সরবরাহে পদে পদে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থআত্মসাতের বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ফার্মস) এবিএম খালেদুজ্জামানকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অন্য তিনজন সদস্য হলেন- আইসিডিডিআরবি’র ল্যাব প্রধান প্রকৌশলী রহমত উল্লাহ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক ডা. সাহেব আলী এবং সাভারস্থ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ডা. গিয়াস উদ্দিন। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পর ইতিমধ্যে এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এ পর্যন্ত ওই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ তো করেইনি  উল্টো মূল তথ্য উদঘাটন না করে দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্ত কমিটি।
সর্ষের মধ্যেই ভুত
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রধান যাকে করা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সেই সহকারী পরিচালক (ফার্মস) ডা. এবিএম খালেদুজ্জামান নিজেই এই ক্রয় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের কাজগুলো মূলত তিনিই পরোক্ষভাবে করেছেন। অথচ তাকেই এই দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 
ডা.এবিএম খালেদুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ক্রয় দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তদন্ত কমিটি গঠনের পর এক বছর পার হয়ে যাবার পরও রিপোর্ট তৈরি না হওয়া প্র্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি একটু জটিল তাই সময় লাগছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক ডা. সাহেব আলীর সঙ্গে এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাকরি থেকে ইতিমধ্যে অবসর নিয়েছেন তিনি। ডা. সাহেব আলী বলেন, হ্যাঁ ঠিক, তদন্তে অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। কিন্তু অন্যরা না চাইলে আমার একার পক্ষে তো কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমি তদন্ত কমিটির প্রধানকে অনুরোধ করেছি, যাতে আর বিলম্ব না করে অতি শীঘ্র এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেন তারা। কারণ, এর দায়-দায়িত্ব সবার উপরই বর্তাচ্ছে। 
শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইছ উল আলম ম-লের সঙ্গে একধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সচিব রইছ উল আলম ম-লের প্রশ্রয়ের কারণেই মূলত এই দুর্নীতির তদন্ত শেষ হচ্ছে না। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। 
( সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১২ নভেম্বর ২০১৮ প্রকাশিত)