মঙ্গলবার, ১৮-ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

  সেন্ট মার্টিনের মালিকানা বিরোধ

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:২০ অপরাহ্ন

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা: নৈসর্গিক লীলাভূমি এক স্বপ্নদ্বীপের নাম সেন্টমার্টিন। এটি দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। যা ভ্রমণ পিয়াসীদেরকে মুহূর্তেই আচ্ছন্ন ও মোহাবিষ্ট  করে ফেলে। তাই এই দ্বীপের আকর্ষণে প্রতিদিনই হাজারো দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটে। এই সাগর দুহিতা আদিকাল থেকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল, এখনও আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। কিন্তু হালে এই প্রবাল দ্বীপের ওপর শকুনীর দৃষ্টি পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। যা আত্মসচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।  
সম্প্রতি মিয়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটে মুদ্রিত মানচিত্রে এই প্রকৃতি কন্যাকে সেদেশের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। যা মিয়ানমার সরকারের অপ্রতিবেশীসূলভ ধৃষ্টতা হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। মূলত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও এতদসংলগ্ন ছেঁড়াদ্বীপের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বা অন্য কোন দেশের সাথে অনিষ্পন্ন মালিকানা বিরোধ অতীতে ছিল না; এখনও নেই। সমুদ্রসীমা নিয়ে দেশেটির সাথে যে বিরোধ ছিল সেটি আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে বেশ আগেই। এরপরও এ দ্বীপ নিয়ে নেইপিডোর দায়িত্বহীন ও উস্কানিমূলক তৎপরতার পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ অতিপুরনো হলেও সেন্টমার্টিন কখনোই বিরোধপূর্ণ ছিল না। বর্মী বর্গীরা অনেকটা পায়ে পা দিয়েই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে জার্মানিতে অবস্থিত সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঞৎরনঁহধষ ভড়ৎ ঃযব খধি ড়ভ ঃযব ঝবধং (ওঞখঙঝ) বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করে। এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয় এবং ২০১২ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশের পক্ষে রায় ঘোষণা করে। ফলে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত উভয় দেশের বিরোধের যৌক্তিক পরিসমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি এবং প্রতিবেশী মিয়ানমারের ৫৮৭ কি.মি। এই হিসাব অনুযায়ী ইটলস-এর রায়ে বাংলাদেশ পেয়েছে ১,১১,৬৩১ বর্গ কি.মি এবং মিয়ানমারের অংশে পড়েছে ১,৭১,৮৩২ বর্গ কি.মি। এছাড়া সমুদ্রে অবস্থিত ২৮টি ব্লকের মধ্যে ১৮টি ব্লকের মালিকানাও পেয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রবক্ষের এই এলাকা প্রচুর তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। আবার গভীর সমুদ্র জলরাশিতে মৎস্য সম্পদের পর্যাপ্ততা যেমন দেখা যায় ঠিক সমুদ্রের তলদেশেও রয়েছে প্রচুর খনিজ সম্পদ। মূলত সেন্টমার্টিন দ্বীপ যে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ তা সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কারণ, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা চলাকালেও মিয়ানমার সেন্টমার্টিনকে নিজেদের বলে দাবি করেনি। মিয়ানমার সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখ- হিসেবে দাবি করার পর বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢেকে নিয়ে জোরালো প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। যদিও বর্মী রাষ্ট্রদূত এটাকে ভুল বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু আত্মসচেতন মানুষ এটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে চাচ্ছেন না বরং বিষয়টিকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে তৃতীয় পক্ষের উস্কানি বলেও মনে করছেন।
মিয়ানমার বরাবরই আমাদের সাথে অপ্রতিবেশীসূলভ আচরণ করে আসছে। তারা ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা অধিবাসীকে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। ৮০-এর দশকের নতুন  নাগরিকত্ব আইনে এসব মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে। গত বছর রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা বা জাতিগত নিপীড়ন নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সু চির সরকার তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি অন্য দিকে সরিয়ে নিয়ে নতুন একটি ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।  
আবার অনেকের বিবেচনায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সংযত আচরণ করায় মিয়ানমারের সঙ্গে কোন সামরিক সংঘাত শুরু হয়নি। কিন্তু তারা বাংলাদেশের সঙ্গে একটা সামরিক সংঘাত বাধিয়ে রোহিঙ্গা পূনর্বাসন ইস্যুকে পাশ কাটাতে চাইছে। যেহেতু বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ সংকট চলছে, তাই সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে মিয়ানমার সরকার। মূলত জাতীয় অনৈক্য ও সরকারের নতজানু এবং দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই মিয়ানমার একের পর এক সংকট তৈরি করছে। নিজেদের অনৈক্যের কারণেই মিয়ানমারের মতো রাষ্ট্রও আমাদেরকে চোখ রাঙ্গাতে সাহস পাচ্ছে। যা অতীতে কখনো কল্পনাও করা যায়নি। 
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মিয়ানমার ও দেশটির প্রধান মিত্র চীনের ভীতি রয়েছে যে, বাংলাদেশের কোনো সরকার রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সেন্টমার্টিনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি তৈরির সুযোগ দিতে পারে। ক্ষমতাসীনরা বিএনপি আমেরিকার সাথে এ ধরনের একটি সমঝোতা করেছে বলে দাবি করে বেইজিংকে কব্জায় রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের আনুকূল্য দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও সেন্টমার্টিন দ্বীপের একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এটি আমাদের দেশের সবচেয়ে সুন্দর ও মনোরম পর্যটন কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে দ্বীপটিকে একটি বিশ^মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। মূলত দেশের সর্ব দক্ষিণের ভূখ- টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটারের মতো দক্ষিণে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপটি স্থানীয়দের কাছে নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ২৫০ বছর আগে আরব নাবিকেরা প্রথম এ দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। তারা এর নাম দেন ‘জাজিরা’। ব্রিটিশ শাসনামলে এর নাম হয় 
সেন্টমার্টিন।একসময় টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়। 
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। সে সময়টিতে বার্মা ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। কিন্তু তারপরও সেন্টমার্টিন দ্বীপকে বার্মার অন্তর্ভুক্ত না করে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে ১৮২৪ থেকে ১৮২৬ সালে ব্রিটিশদের সাথে বর্মী রাজার যে যুদ্ধ হয় তাতে বিতর্কের  ইস্যুগুলোর মধ্যে এ দ্বীপের মালিকানাও একটি ছিল। তারা এতে সুবিধা করতে পারেনি।
কক্সবাজার সংলগ্ন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আদি থেকে বর্তমান বাংলাদেশের ভূখ-ের অন্তর্গত। ব্রিটিশ শাসনাধীনে ১৯৩৭ সালে যখন বার্মা ও ভারত ভাগ হয়, তখন সেন্টমার্টিন ভারতে পড়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় সেন্টমার্টিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এটি বাংলাদেশে অন্তর্গত। ১৯৭৪ সালে সেন্টমার্টিনকে বাংলাদেশের ধরে নিয়েই মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়।
জানা যায়, প্রথমে কিছু আরব বণিক চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাতায়াতের সময় এই দ্বীপটিকে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করতেন। কালক্রমে চট্টগ্রাম এবং তৎসংলগ্ন মানুষ এই দ্বীপটিকে জিঞ্জিরা নামেই চিনতো। ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কিছু বাঙালি এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এই দ্বীপে বসতি স্থাপনের জন্য আসে। যতটুকু জানা যায়, প্রথম অধিবাসী হিসাবে বসতি স্থাপন করেছিল ১৩টি পরিবার। 
সময়ের ব্যবধানে দ্বীপটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয়। ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটিশরা স্থানীয় নামের পরিবর্তে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে সেন্টমার্টিন নাম প্রদান করে। এরপর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের বাইরের মানুষের কাছে, দ্বীপটি সেন্টমার্টিন নামেই পরিচিতি লাভ করে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপের তিন দিকের ভিত শিলা যা জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় জেগে ওঠে। এগুলোকে ধরলে এর আয়তন হবে প্রায় ১০-১৫ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা। দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার। দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সাগরের অনেক দূর পর্যন্ত অগণিত শিলাস্তুপ আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার। সেন্টমার্টিনের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর। যা দ্বীপটিকে নয়নাভিরাম করে তুলেছে।
দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১শ ৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১শ ৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১শ ৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ, ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, চার প্রজাতির উভচর ও ১শ ২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে পেজালা নামে পরিচিত ঝবধ বিবফং বা অ্যালগি (অষমধব) এক ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল সেন্টমার্টিনে প্রচুর পাওয়া যায়। এগুলো বিভিন্ন প্রজাতির হয়ে থাকে তবে লাল অ্যালগি (জবফ অষমধব) বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয়। 
এছাড়াও রয়েছে ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। অমেরুদ-ী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে স্পঞ্জ, শিল কাঁকড়া, সন্যাসী শিল কাঁকড়া,লবস্টার ইত্যাদি। মাছের মধ্যে রয়েছে পরী মাছ, প্রজাপতি মাছ, বোল করাল,রাঙ্গা কই, সুঁই মাছ, লাল মাছ,উড়ুক্কু মাছ ইত্যাদি। সামুদ্রিক কচ্ছপ সবুজ সাগর কাছিম এবং জলপাইরঙা সাগর কাছিম প্রজাতির ডিম পাড়ার স্থান হিসেবে জায়গাটি খ্যাত।
দ্বীপে কেওড়া বন ছাড়া প্রাকৃতিক বন বলতে যা বোঝায় তা নেই। দ্বীপের দক্ষিণ দিকে প্রচুর পরিমাণে কেওড়ার ঝোপ-ঝাড় আছে। দক্ষিণ দিকে কিছু ম্যানগ্রোভ গাছ আছে। অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে কেয়া, শ্যাওড়া, সাগরলতা, বাইন গাছ ইত্যাদি।
এছাড়াও দ্বীপবাসী অনেকে মাছ, নারিকেল, পেজালা এবং ঝিনুক ব্যবসা করে। এছাড়াও কিছু মানুষ দোকানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। ছোট ছোট শিশুরা দ্বীপ থেকে সংগৃহীত শৈবাল পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপেই প্রচুর নারিকেল এবং ডাব বিক্রি হয়। 
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও অফুরান সম্পদসমৃদ্ধ সেন্টমার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ ও আকর্ষণীয় পর্যটন ক্ষেত্র। এটি কখনোই বিরোধপূর্ণ ভূখন্ড ছিল না। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে পাশ কাটানোর জন্য সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাই এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ না করতে পারলে সেন্টমার্টিনকেও আরাকান ও রোহিঙ্গাদের ভাগ্যবরণ করতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, অতীতে বর্র্মী বর্গীরা স্বাধীন রাজ্য আরাকানকে দখল করে নিয়েছে। মূলত ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীন রাজ্য থাকলেও মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়। ফলে রোসাঙ্গ রাজসভার বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যিকরা যে রাজ্যকে রোসাং ও মুসলিম জনপদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তা বৌদ্ধ উগ্রবাদীদের নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতায় কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। 
ফলে রোহিঙ্গা মুসলিমরা এখন নিজ দেশেই পরবাসী, বাস্তহারা ও অধিকারহীন এক যাযাবর জনগোষ্ঠী। যাদের রক্তে প্রতিনিয়ত রঞ্জিত হচ্ছে মুসলিম জনপদ। সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীর ভাগ্য কি সেদিকে মোড় নিচ্ছে কী না তা আত্মসচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও জাতিকে বহুধাবিভক্ত করার কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে চর্মচটিকাদের উপদ্রপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গণভিত্তিহীন ও দুর্বল সরকারই এর অন্যতম কারণ। কিন্তু একথা মনে রাখতে হবে যে, দেশ কোন দল, গোষ্ঠী বা সরকারের নয় বরং জনগণের। তাই জনগণই দেশের অখ-তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।